শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | ১১ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

পালংখালী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির স্মারকলিপি প্রদান

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

বরাবর,

মাননীয় জেলা প্রশাসক

কক্সবাজার।

বিষয়ঃ স্থানীয়দের উপর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কতৃক সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত নিরসন ও ন্যায্য দাবি প্রসঙ্গে।

জনাব,
যথাযথ সম্মান পূর্বক আমরা অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি, ৫নং পালংখালী, উখিয়া। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া-টেকনাফ। গত ২০১৭ সালে মায়ানমার সেনাবাহিনী অমানবিক নির্যাতনের কারণে বতর্মানে ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা আশ্রয় নিয়েছে, যার অধিকাংশই বর্তমানে পালংখালী ইউনিয়নে বসবাস করছে। বাস্তুচ্যুত এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও হোস্ট সম্প্রদায়ের জন্য এনজিও ও আইএনজিও এর মানবিক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীদের জন্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তুসংস্থান জনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই RRRC ও এনজিও ব্যুরো স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু এনজিও ও আইএনজিও সমূহ মাঠ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম করে যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনায় রোহিঙ্গাদের চাকরিতে না নেয়ার ব্যাপার নির্দেশনা থাকলেও প্রতিনিয়ত এনজিও সমূহ স্থানীয়দের সুযোগ না দিয়ে চাকুরী থেকে ছাটাই করছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যা এনজিও ব্যুরো এবং আরআরআরসি (RRRC) নিয়ম পরিপন্থী। যার ফলে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ যা অপ্রিতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে। আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, চাকুরীর নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট থাকলেও উখিয়া-টেকনাফের ছেলে-মেয়েদের বা স্থানীয়দের অবহেলা করা হচ্ছে। আরো উল্লেখ্য যে, চাকরির নিয়োগে হোস্ট কমিউনিটি বলে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্রোতের মত আসা রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনসাধারণের জীবন নানা দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত, বঞ্চিত। এ রকম নানা সমস্যায় স্থানীয়দের মধ্যে তিক্ততা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে আমরা খুব বিপদের মধ‍্যে রয়েছি। রোহিঙ্গাদের চাপে কৃষি জমি, বন, সার্বিক নিরাপত্তা, শ্রমবাজার এবং শিক্ষাসহ স্থানীয় মানুষের জীবন আজ নানা দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা সস্তায় কাজ করার কারণে স্থানীয়দের আর কাজ জুটছে না। ইউএন অর্গানাইনেজশন বা এনজিওগুলো তাদের বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয়দের উন্নয়নে ব্যয় করার ঘোষণা থাকলেও সেই অনুযায়ী কাজের সঠিক বাস্তবায়ন এবং সচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে না এবং এনজিওতে চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের কার্যক্রমে কোন সচ্ছতা নাই। তাই আমরা নিরুপায় হয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পক্ষে আপনার নিকট বিনীত আবেদন করছি, মানবিক বিবেচনা থেকে অবিলম্বে এইসব সমস্যাসমূহ সমাধান করে আমাদের অভিন্ন ন‍্যায‍্য অধিকার ফিরিয়ে দিবেন বলে আপনার কাছে মর্জি হয়।
এমতাবস্থায় আমাদের দাবিসমূহঃ

১। মায়ানমারে প্রত‍্যাবাসন করার জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত এনজিওদের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

২। রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রোগ্রামে এনজিওর চাকুরীর নিয়োগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে যাতে নিয়োগের কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

৩। ৩. স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষত ক্ষতিগ্রস্ত উখিয়া-টেকনাফবাসীকে ক্যাম্পে চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে এবং প্রতিটি নিয়োগে তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪। ইউএন অর্গানাইজেশন বা এনজিও গুলো তাদের বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয়দের উন্নয়নে ব‍্যয় করার যে ঘোষণা দিয়েছে সে অনুযায়ী কাজের সঠিক বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

৫। সিকিউরিটি গার্ড এবং ক্লিনার ব‍্যতিত অন্য কোন পদে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা চাকুরী করতে পারবেনা।

৬। রোহিঙ্গা অধ‍্যুষিত এলাকা উখিয়া-টেকনাফে যারা সামাজিক বনায়ন হারিয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের ব‍্যবস্থা করতে হবে।

৭। শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখতে উখিয়া-টেকনাফের প্রতিটি এমপিও ও ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমপক্ষে দুইজন করে শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হবে।

 

জ্ঞাতার্থে…
অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি,
৫নং পালংখালী, উখিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *