Saturday, 24 Oct 2020

সাগরলতায় হাসছেন স্থপতি শেখ মুজিব!

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

আহমদ গিয়াস:: কাজটা শুরুর জন্য আমরা এমন একটি দিন খুঁজছিলাম, যেটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে। আমরা এ পরিকল্পনাটি নিয়েছিলাম গত বছর জুনের প্রথম দিকে। তবু আমরা কাজটি শুরুর জন্য প্রায় আড়াই মাস ধরে অপেক্ষা করেছি। কারণ আমরা চেয়েছি, জাতিকে অনুপ্রেরণা যোগাতে; শোককে শক্তিকে পরিণত করার । এজন্য জাতির সবচেয়ে শোকাবহ দিনটিকেই বেছে নিয়েছিলাম আমরা।

পাশাপাশি আমার ভয় ছিল যে, মিডিয়া ও প্রশাসনের মধ্যে থাকা খারাপ লোকগুলো এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে। যেমন: ‘দরিয়ানগরে সাগরলতা বনায়নের নামে সৈকতের হাজার কোটি টাকা মূল্যের সরকারী জমি দখল চেষ্টা বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের! এসিল্যান্ড নাজিমদের মতো অফিসারদের দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হতেও পারে, সাজা হতে পারে! এমনকি দুদককে ব্যবহার করেও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে! সব ঝুঁকি আমাদের বিবেচনার মধ্যে ছিল। তাই একদিকে কাজটি শুরুর জন্য আমরা নির্জন সময়টি বেছে নিয়েছি (অবশ্য একেবারেই হয়ত: নির্জন ছিল না, হয়ত: এলাকার কেউ কেউ দেখে ফেলে যেটি তারা আমার অবর্তমানে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন), অন্যদিকে সেই বনে কোন ঘেরাবেড়া দেয়ার সাহস করিনি। ওইদিন বিকালে চুপিসারে আমরা দুজন মিলে সাগরলতার কার্টিং রোপন করি এবং নিরবেই সৈকত থেকে ফিরে আসি। আমার একমাত্র সাথী ছিলেন বাংলাদেশ ফিশারিজ রিচার্স ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আমার বন্ধু মোহাম্মদ আশরাফুল হক।
গতবছর মে মাসের শেষ দিকে ভেটকি নিয়ে একটি রিপোর্ট করার পর থেকেই তিনি আমাকে অনুরোধ করছিলেন সাগরলতা নিয়ে ‘গবেষণা’ করার জন্য। এও বললেন যে, তিনি আমার নেতৃত্বে কাজ করবেন! বিশ্বাস করুন, শুরুতে আমি ভেবেছি যে- তার কোন মানসিক বৈকল্য হয়েছে কীনা! (দু:খিত, ভুল বুঝবেন না, কোন সমস্যার সমাধানে মগ্ন কোন বিজ্ঞানীর এই ধরনের সাময়িক বৈকল্য ঘটতেই পারে!)। উত্তরে আমি তাঁকে বললাম- আমিতো কোন গবেষক নই! কখনও কোন গবেষণা করিনি! আমার কোন ডিগ্রিও নেই! আপনি এসব কী বলছেন? তিনি হেসে আমাকে বললেন, আপনি পারবেন! আপনি দেশের জন্যই গবেষণা করুন! আপনার কোন ডিগ্রি লাগবে না! বার্নাকল্স এর মতোই এক ধরনের নাচোড় বান্দা আমার বন্ধু বিজ্ঞানী আশরাফ।
ছোটকাল থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আমার আগ্রহ। আশির দশকের শেষার্ধে যুক্ত হই মাসিক বিজ্ঞানবার্তার সাথে। বিজ্ঞানে লেখালেখির পাশাপাশি গড়ে তুলি বিজ্ঞান ক্লাব। গড়ে তুলি বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের লাইব্রেরী, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল রাশিয়ার প্রকাশনীর। স্কুলে পড়ার সময় স্পুটনিকের গ্রাহক হয়েছিলাম মায়ের রূপার অলংকার বিক্রি করে। বাজার করার সময় বেঁচে যাওয়া ১ টাকা, ২ টাকা জমিয়ে কিনতাম বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী। এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিজ্ঞান পাতাগুলো সংগ্রহ করতাম। প্রকৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জানার আগ্রহই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনোদন। এগুলো আমার মাঝে ছোটকাল থেকেই চিন্তার উদ্রেক ঘটিয়ে দেয়। তাই দেশের বিজ্ঞানী ও তরুণদের আমি উৎসাহিত করতাম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য, আর নানা তথ্যের যোগান দিতাম। এখন বিজ্ঞানী আশরাফ আমাকেই গবেষক বানাতে চান! সিদ্ধান্ত হল যে, বিষয়টি গোপন রাখার। তিনি কথা রাখলেন। প্রায় ৩ মাস পর প্রাথমিক সমীক্ষা সফল হওয়ার স্পষ্ঠ প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর নভেম্বরের শেষ দিকে আমি রিপোর্ট করি। কিন্তু সেই সাগরলতা তখনও তেমন কারো কাছে মূল্যবান মনে হল না! কিন্তু করোনা লকডাউন আমাদের চিনিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির এই মহা প্রকৌশলীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *