শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ায় ছোট ভাইয়ের হামলায় আহত বড় ভাইয়ের মৃত্যু পিছিয়ে যাচ্ছে টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সফর! তামিম-মুশফিকদের শুক্রবারের করোনা টেস্টও স্থগিত চট্টগ্রামের ৭ ইউনিয়নে যারা নৌকার টিকেট পেলেন গর্জনিয়ায় রাস্তাবিহীন দাড়িয়ে আছে ব্রীজ, যাতায়াতের কেউ নেই? মহেশখালীতে বঙ্গবন্ধু জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী জাতীয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট, জড়িত শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ১৯৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দুই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা সংকট এবং করোনা মোকাবিলায় ইউএনও নিকারুজ্জামান ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক-এমপি শাহীন খুটাখালীতে স্বামী সংসার ফিরে পেতে পাঁচমাসের অন্ত:স্বর্ত্তা তরুনীর আর্তনাদ রাজাপালং ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে একই পরিবারের মাতা-ছেলে-জামাতার মনোনয়ন স্থানীয়দের কবর দেওয়ার জায়গাটাও কি কেড়ে নেওয়া হবে? দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত ঢাকা শিশু হাসপাতাল!
সমসাময়িক ভাবনাঃ বিষণ্ণ মহেশখালি

সমসাময়িক ভাবনাঃ বিষণ্ণ মহেশখালি

সলিমুল্লাহ খানঃ

মেঘে মেঘে অনেক বেলা হইল জগদ্বিখ্যাত সুন্দরবনের অদূরে বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত রামপাল নামক একটি জায়গায় কয়লা পোড়াইয়া বিদ্যুৎ কারখানা বসাইবার আয়োজন চলিতেছে। এই বিদ্যুৎ কারখানা সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করিবে, তাহার অনুপম বিচিত্র প্রাণের অবসান ঘটাইবে এক কথায় ইহাতে সুন্দরবনের মৃত্যু হইবে। এই সত্যে সন্দেহ নাই বলিয়া দেশের বুদ্ধিজীবী মহল অন্তত ইহার একাংশ প্রতিবাদের হাত উঠাইয়াছেন। দুঃখের মধ্যে, এই প্রতিবাদ যাঁহারা সংগঠিত করিতেছেন তাঁহারা সংখ্যায় আর শক্তিতে বড় দুর্বল। নহিলে যতই দিন যাইতেছে তাঁহাদের প্রতিবাদও এইভাবে মিইয়া যাইত না। এই প্রতিবাদের সহিত আমি বরং জানাজার নামাজের তুলনা করিব। মানে বলিতেছি, যদি এই অবিমৃষ্যকারিতার বিরুদ্ধে দেশের কেহই কোথায়ও কোনো আওয়াজ না করিতেন আমরা এই যুগে যাহারা প্রাণধারণ করিতেছি তাহারা সকলেই দায়ী থাকিতাম। কয়লা পোড়াইয়া বিদ্যুৎ কারখানা চালাইবার বিরুদ্ধে যাহারা প্রতিবাদ করিতেছেন আমি তাঁহাদের বন্দনা করি।

 

আপশোসের বিষয়, আমাদের প্রতিবাদ আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ সংগ্রামে পরিণতি পায় নাই। সর্বসাধারণের মধ্যে সত্য ঘটনার প্রচার না হইলে তাহা হইতেও পারে না। এই ধরনের কয়লা-বিদ্যুৎ কারখানার প্রকোপ ঘটিলে যাহাদের প্রথম শহিদ হইবার কথা আজিকালিকার নব্য দখলদারদের ভাষায় যাহাদিগকে বলা হয় ‘স্থানীয় জনসাধারণ’ তাহারাও খুব একটা বড় সংখ্যায় এই আন্দোলনে শরিক হন নাই। রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কারখানার প্রতিবাদীরা মোটের উপর গোটা দুইটা যুক্তি পেশ করিয়াছেন। একটা সামান্য, অন্যটা বিশেষ। সামান্য যুক্তি অনুসারে কয়লা পোড়াইয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করা পৃথিবীর জীবজীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক। ইহাই জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা বিশ্বজনীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির নিগূঢ় কারণ। প্রতিবাদকারী বুদ্ধিজীবীরা যে বিশেষ যুক্তির আশ্রয় লইয়াছেন তাহার মর্ম মোতাবেক কয়লা পোড়াইয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের কর্মটা যেন সুন্দরবনের আওতায় পড়ে এমন কোনো জায়গায় সম্পাদন করা না হয়। আন্দোলনটা যেন একান্ত সুন্দরবন বাঁচাইবার জন্য অন্য বনে নিষ্ঠীবন ছিটাইলে তাহাদের কিছু যাইবে কি আসিবে না।

 

১. কে জানে হয়তো শেষ পর্যন্ত এই বিশেষ যুক্তির আশ্রয় লইয়াছিলেন বলিয়াই আমাদের প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবীগণ কক্সবাজার জেলার অধীনস্ত মহেশখালি দ্বীপে প্রায় আধাডজন কয়লা-বিদ্যুৎ কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে বিশেষ উচ্চবাচ্য করেন নাই। করেন নাই বলিয়াই আমরা যে প্রবাদ হইতে জন্মিয়াছি আমাদিগকে শেষ পর্যন্ত সেই প্রবাদেই ফিরিয়া যাইতে হইতেছে। ইংরেজিতে যেমন বলে তেমন বলিতে হইতেছে কাঁটাটা কোথায় বিন্ধিতেছে তাহা মাত্র জুতা পরনেওয়ালাই জানে। হইতে পারে আমাদের হাতের এই ছোট্ট বহিটির লেখক দুইজনও মহেশখালিতে জন্মিয়াছেন বলিয়াই ঠাহর করিয়াছেন কাঁটাটা ঠিক কোথায়, কোন জায়গায়, বিন্ধিয়াছে। দুঃখের মধ্যে এই ভূমিকার লেখকও একই ভাগ্যের শরিক। আমিও এই অভাগা দ্বীপে একদিন ভূমিষ্ঠ হইয়াছিলাম। এক্ষণে বলিয়া রাখা দরকার এই বইয়ের লেখকদ্বয় আমার নিকটতম আত্মীয় যথাক্রমে আমার সহোদর ভাই ও বোন। তবে মাত্র সেই কড়ারে আমি এই ভূমিকা লিখিতে বসি নাই। বয়সে কিছু ছোট হইলেও কি দায়িত্বজ্ঞানে, কি কর্তব্যনিষ্ঠায় কিংবা দূরদৃষ্টিযোগে তাঁহারা নিঃসন্দেহে আমার উত্তমর্ণ। তাঁহাদের বিষয়ে আমার বেশি কথা বলা হয়তো সমীচীন হইবে না। এই অবসরে মাত্র বলিতে পারি, শিক্ষাজীবনের দোরগোড়ায় ইহারা দুইজনেই মহাত্মা আহমদ ছফার সাহচর্য লাভ করিয়াছিলেন। আর কি বলিব, ইহাদের উদাহরণ হইতে আমি অনেক কিছু শিক্ষা করিয়াছি। আমাদের বাড়িতে যে কয়েকটি লেখক জন্মিয়াছেন তন্মধ্যে এই দুইজনই শ্রেষ্ঠ। অন্যান্যের মধ্যে আমাদের হাতে ধরা ছোট্ট বহিটিই এই কথার প্রমাণ বিশেষ। কথাটা একটু বুঝাইয়া বলি। আমাদের দুই লেখক যে সকল প্রবন্ধ এই বহিতে একত্র করিয়াছেন তাহার সকল কথাই আমি বুঝিতে পারিয়াছি এমন দাবি করিব না। যেটুকু বুঝিয়াছি তাহার মধ্যে শুনিতে পাইতেছি এক তীব্র আর্তচিৎকার বিপন্নের বেদনা বা বোবাকান্না। অস্বীকার করিয়া লাভ নাই, আজিকার এই বিলুপ্তিসম্ভব একটি সামান্য দ্বীপে জন্মিয়াছিলেন বলিয়াই হয়তো তাঁহারা এই প্রতিবাদটা রচনা করিতেছেন। কিন্তু এই প্রতিবাদের একটি সামান্য তাৎপর্যও আছে। আমি বিশেষ করিয়া সেই কথাটার উল্লেখই করিতে চাই।

 

বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে ‘কাহারও পৌষমাস, কাহারও সর্বনাশ’। কথাটাকে আমাদের ভাষায় সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘উন্নয়ন’ নামক অপর একটি শব্দের সংজ্ঞা আকারেও গ্রহণ করা চলিবে। যত মানুষ এই পৌষমাসের বা ফসল তোলার আনন্দে আটখানা হইতেছেন ঠিক তত মানুষ কাহার কতখানি ‘সর্বনাশ’ সাধিত হইল তাহার হিসাব রাখিতেছেন কি? যাঁহারা রাখিতেছেন সেই অল্পসংখ্যক মানুষের চিন্তাভাবনা কিছু কিছু এই বইয়ের মধ্যে ধরা পড়িয়াছে বলিয়াই আমার বিশ্বাস। এই বইয়ের বিষয়বস্তু মহেশখালি। একদিক হইতে দেখিলে বিষয়টাকে কিছু অসাধারণই মনে হইবে।

সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সাইটের কোন লিখা বিনা অনুমতিতে কপি করা আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সিটিবি নিউজ ২০১৮-১৯ সম্পাদক কতৃক সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত, নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM