বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সেতু উদ্বোধন হওয়ায় আনন্দিত রামগড়ের মানুষ

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

হলাপ্রুসাই মারমা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সেতু ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১’ উদ্বোধন হওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, এর মধ্যদিয়ে উভয়দেশের সম্পর্ক আরো উচ্চতায় উঠবে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় এবং ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম দিয়ে ফেনী নদীর ওপর দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, সেতুটি উদ্বোধন উপলক্ষে সেতুর দু‘ধারে রঙ্গিন পতাকায় সুসজ্জিত করা হয়। তবে বাংলাদেশ অংশে এ নিয়ে কোন রকম প্রস্তুতি ছিলনা। এছাড়া কমে নাগাদ মালামালবাহী ট্রাক লরি চলাচল শুরু হবে তাও নিশ্চিত কেউ জানাতে পারেননি তিনি। অবশ্য রামগড়ে প্রস্তাবিত স্থলবন্দর সংলগ্ন মৈত্রী সেতু উদ্বোধন হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। উচ্ছাস জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরাও।
স্থানীয় সাংবাদিক রতন বৈঞ্চব ত্রিপুরা জানিয়েছেন, ‘ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যসহ সেভেন সিস্টার খ্যাত ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘রামগড় স্থলবন্দর’ চালুর অংশ হিসেবে এটি নির্মান করেছে ভারত সরকার। এটির ফলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরো উন্নতি ঘটবে বলে আশা করি।’
রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^ প্রদীপ কার্বারি মনে করেন, দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সেতুর উদ্বোধন হওয়া এবং রামগড় স্থলবন্দরটি পুরোদমে চালু হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গতি আসবে।
রামগড় আওয়ামীলীগের নেতা রফিকুল ইসলাম কামাল জানান, এর মাধ্যমে রামগড়সহ সমগ্র খাগড়াছড়ির মানুষের ব্যবসা বানিজ্য প্রসার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হওয়া ছাড়াও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু জানিয়েছেন, দুই বন্ধু প্রতীম দেশের নেতা ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারত সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, কাংখিত সেতুটি উদ্বোধন হওয়ায় এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ত্রিপুরার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের জন্যও স্থলবন্দরটি গেটওয়ে হয়ে উঠবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জুন উভয়দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে বহুল কাংখিত স্থলবন্দর চালুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন উভয় দেশের জনগণ। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল। সেতুটি ৪১২ মিটার দৈর্ঘ এবং ১৪.৮০ মিটার প্রস্থের। সাব্রুম থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দুরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *