শনিবার, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

ঘুমধুমে নামের মিল থাকায় ইয়াবা মামলায় পলাতক আসামী হয়েছে নিরীহ আবদুল হক

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মোঃআলমের ছেলে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (৩৮) ২৯৩০ পিচ ইয়াবাসহ ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের হাতে আটক হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আলাউদ্দিন কে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বেতবনিয়ার পাকা রাস্তার উপর থেকে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত এসআই মোঃ ইউনুচ মিয়া গোপন সুত্রে খবর পেয়ে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য সহ আটক অভিযান চালান।

ইয়াবা সহ আটক আলাউদ্দিন কে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করে মাদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পলাতক ৩ জন সহ এজাহার নামীয় ৪ জনের নামে মামলা রুজু করে।১৬ ফেব্রুয়ারী থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহার নামীয় ২ নং আসামী আবদুল হক, পিতা শহর মুল্লুক,ঘুমধুম মধ্যম পাড়া,৪ নং ওয়ার্ড, ০৩ নং ঘুমধুম ইউপি,উপজেলা/থানানাইক্ষ্যংছড়ি,বান্দরবান উল্ল্যেখ করা হয়।পুলিশের দাবী মতে ইয়াবাসহ আটক আসামী আলাউদ্দিন পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে পালিয়ে যাওয়া আসামীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে।
ইয়াবাসহ আলাউদ্দিন আটকের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় দায়ের করা মামলার ২ নং আসামী আবদুল হক প্রসঙ্গে আলাউদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (২৬) ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বলেছেন,আমার স্বামী আলাউদ্দিন কে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যার দিকে আমার প্রতিবেশী মৃতঃ. আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল হক (৪০) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।যাওয়ার সময় একটি পলিথিন মোড়ানো প্যাকেট সহ রওয়ানা দেয়।যে প্যাকেট টি ১৫ ফেব্রুয়ারীর এক সপ্তাহ পূর্বে প্রতিবেশী আবদুল হকই আমার বাড়িতে এসে দিয়ে গিয়েছিল।সেই প্যাকেট নিয়ে আমার স্বামী আলাউদ্দিন কে আবদুল হক ডেকে নেওয়ার ঘন্টা খানেক পর অর্থাথ রাত ৮ টার দিকে খবর পান ইয়াবাসহ আলাউদ্দিন পুলিশের হাতে বেতবনিয়া বাজারে আটক হয়েছে।

মামলায় শহর মুল্লুকের ছেলে আবদুল হক ২ নং আসামী হয়েছে জানতে পেরেছি।প্রকৃত পক্ষে মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে আবদুল হক নয়,আমারপ্রতিবেশী মৃত আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল হকই জব্দ করা ইয়াবা গুলোর মালিক।মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে আবদুল হক কে আমি কখনো দেখি নাই।সে আমার বাড়িতেও আসে নাই কোনদিন।

স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং আবদুল হক ইয়াবাসহ আটক আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে ভিডিও স্বাক্ষাতকার নেন।এসময় এজাহার নামীয় ২ নং আসামী আবদুল হক কে আলাউদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম দেখে জানান,ইয়াবার মালিক এই আবদুল হক নয়।আমার প্রতিবেশী মৃত আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল হক।
আলাউদ্দিনের স্ত্রী হিসেবে রেহেনা বেগম বলেন,উক্ত ইয়াবাগুলো প্রতিবেশী আবদুল হকই দিয়েছিল।
আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে নিরীহ আসামী আবদুল হক কে অব্যাহতি চাই।

আসামী হওয়া আবদুল হক বলেন,তিনি নিরীহ মাছ ব্যবসায়ী। মাছ ব্যবসা করে জিবিকা নির্বাহ করেন।আমার তিন ছেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরী করে।আমি কিভাবে ইয়াবা মামলায় আসামী হলাম নিজেও বিস্মিত। প্রশাসনের নিকট করুন দাবী,সুষ্ঠু ও অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্ত করে উক্ত মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হউক।

উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেছেন,অধিকতর তদন্ত করে বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *