বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার মাছকারিয়াতে সামাজিক বনায়নের জায়গায় ভূমিদস্যুদের স্থাপনা নির্মাণ উখিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট মাটিভর্তি ডাম্পার আটক ১জনের সাজা সিনহা হত্যাঃজড়িত সন্দেহে ৩জন গ্রেপ্তার করোনার প্রথম টিকার অনুমোদন রাশিয়ায়, নিলেন পুতিনকন্যা মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন অভিজিৎ কুমার বড়ুয়া ধলঘাটা শরইতলা খাল ঘোনার পানি চলাচলের পথ বন্ধ! ডুবে গেছে রাস্তাঘাট,বসতবাড়ী টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রীকে জবাই করেছে স্বামী উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবা সহ বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোঃ রশিদ আটক মহেশখালীতে ভূমিদস্যুর হামলায় আহত রেঞ্জ কর্মকর্তার মৃত্যু টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেপ্তার মাদক কারবারীদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত দৈনিক কক্সবাজার ৭১ অফিস! নিজ, পরিবার ও দেশকে সুরক্ষিত রেখে ঈদ উদযাপন করুন
কোনটা আমাদের সমাজ? মেহেদী হাসান পলাশ

কোনটা আমাদের সমাজ? মেহেদী হাসান পলাশ

করোনা শুরু হওয়ার পর ভয়ে, আতঙ্কে কিছু মানুষ করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীর প্রতি নির্দয় আচরণ করেছে। মিডিয়াতে এইসব ঘটনা ফলাও করে প্রচার হয়েছে। করোনা আক্রান্ত মাকে বনে রেখে আসলো সন্তানেরা, করোনা আক্রান্ত স্বামীকে রুমে আটকে রাখলো স্ত্রী, করোনা আক্রান্ত বাড়িতে প্রতিবেশীর হামলা, লাশ দাফনে বাধা, লাশের জানাজায় আপনজনের অনুপস্থিতি ইত্যাদি সংবাদ। এ ধরণের সংবাদ সমাজে আরো ভীতি, সংশয় সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটাই বাংলাদেশের পরিবার ও সমাজের বাস্তব চিত্র কি?
মোটেই না। বাংলাদেশে পারিবার ব্যবস্থা এতো দৃঢ় যে, পরিবারের এক সদস্যের জন্য অন্য সদস্য হাসতে হাসতে জীবন দিতে কুণ্ঠিত হয় না। মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী প্রভৃতি রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনগুলো একে অন্যের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকে। দু’য়েকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বর্তমান করোনাকালেও তা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। করোনাকালে বাড়িতে বাড়িতে খোঁজ নিলে দেখা যাবে করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের দেখভাল, যত্ন, পরিচর্যা পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে করছে। শুধু পরিবার নয়, হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিলে দেখা যাবে প্রত্যেক করোনা রোগীর কাছেই পরিবারের সদস্যরা পালা করে দেখভাল করছে। সব ধরণের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা এই কাজ হাসিমুখে করছে প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য।
হাসপাতাল বাসকালে আমি নিজে দেখেছি, আমি যে ওয়ার্ডে ছিলাম, সেই ওয়ার্ডের প্রত্যেক রোগীর কাছেই প্রতিদিন তাদের পরিবারের সদস্যরা এসেছে। বেশ কিছু সময় অবস্থান করেছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়েই তারা এসেছেন। আমার সামনের বেডের রোগীর স্ত্রী প্রতিদিন ভোরে বিক্রমপুরের একটি গ্রাম থেকে আসতো স্বামীকে দেখতে। তার দুই ছেলে সারাদিন পালাক্রমে এসেছে বাবার খাবার, ওষুধ নিয়ে। আমার পাশের বেডে একজন ব্যাংকার থাকতেন। তার ছোট ভাই প্রতিদিন আসতো ভাইয়ের জন্য খাবার নিয়ে। অন্তত ঘন্টা দুয়েক মাক্স, পিপিই পরে ভাইয়ের পাশে বসে গল্প করতেন, আর তাকে সাহস দিতেন। গ্লাভস পরা হাত দিয়ে ভাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। একজন অসুস্থ রোগীর মাথায় প্রিয়জনের হাত কতোটা উপশমক তা ব্যাখ্যা করে কাউকে বোঝানোর দরকার নেই। নিঃসন্দেহে এতে ঝুঁকি আছে। এই সেবা করতে গিয়ে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে, জীবন সংশয় হয়েছে- তাও সত্য। তবু প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য এই ঝুঁকি হাসিমুখে তারা নিয়েছে।
বিচ্ছিন্ন যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলো স্বাভাবিক সময়েও ঘটে। সমাজে বৃদ্ধ পিতামাতার খেদমত করে না, তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে, রেল স্টেশনে, পথের ধারে ফেলে আসে- এরকম অনেক সন্তানই রয়েছে। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে হত্যা, স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নির্যাতন, হত্যার ঘটনা ঘটে না তা তো নয়। সে রকম কোনো ব্যক্তি যদি করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্যের প্রতি নির্দয় আচরণ করে তাহলে তার দায় কতোটুকু করোনার সেটা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। আসলে তারা তাদের স্বাভাবিক চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে করোনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এটা বাংলাদেশের সমাজের স্বাভাবিক চিত্র নয়।

লেখক: মেহেদী হাসান পলাশ, সম্পাদক, পার্বত্য নিউজ।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সাইটের কোন লিখা বিনা অনুমতিতে কপি করা আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সিটিবি নিউজ ২০১৮-১৯ সম্পাদক কতৃক সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত, নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM