বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

কর্ণফুলীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষমতার দাপট: পরিষদ চত্বরেই ‘ভাসমান মার্কেট’

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসে দেশসহ পুরো পৃথিবী আতঙ্কে। অদৃশ্য এই ভাইরাস ঠেকাতে একের পর এক দেয়া হচ্ছে লকডাউন। স্বল্প সংখ্যক লোকজন নিয়ে নামাজ আদায় করা হচ্ছে মসজিদে। বন্ধ রয়েছে সভা সমাবেশ-সেমিনারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান।

এর মধ্যে এক উল্টো চিত্র দেখা গেছে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটায়। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাঁর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিষদ চত্বরেই অনুমতি দিলেন ‘ভাসমান মার্কেট’ বসানোর। পরিষদের বাউন্ডারির ভেতরে এসব ভাসমান দোকান দেখে স্বয়ং স্থানীয়রা নানা অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন।

আবার এসব কান্ড দেখে গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে।

শনিবার (০২ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কিছু ব্যবসায়ী বেশ দু’সারিতে বেশ কয়েকটি ‘ভাসমান দোকান’ বসিয়েছেন। ফলে পরিষদে সেবা নিতে যাওয়া সাধারণ নাগরিকেরা মানুষের ভিড়ে বিব্রত হতে দেখা গেছে।

বিরুপ মন্তব্য করে খোয়াজনগর ও ইছানগরের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, গুটিকয়েক ইউপি সদস্য ও চৌকিদারের মিলে চেয়ারম্যানকে ভুল তথ্য দিয়ে দৈনিক ভাড়ায় এসব দোকান বসিয়েছেন নিজেদের স্বার্থে। এতে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমেদও গরিব চৌকিদারদের কথা বলায় মৌন সম্মতি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।

অপরদিকে, চেয়ারম্যানের দাপটে ইউনিয়ন পরিষদের বাউন্ডারিতে এ ধরনের রমরমা ব্যবসা দেখে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। তবে শুনেছি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে এসব দোকান বসেছে।’

এ বিষয়ে ১ নং (খ) চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমেদ বলেন, ‘এটা আর কী জানতে চাইবেন। ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারেরা দু,চার পয়সা পাবে। এতে কারো কোন সমস্যা হচ্ছে? মানুষেরা সমালোচনা করলে আমাকে টিএনও সাহেব বলুক। খসড়া দোকান মাত্র ২/৪ দিনের জন্য বসল এতে অসুবিধা কোথায়?

তিনি আরো বলেন, ‘সমালোচনা করলে আমার কিছু যায় আসে না। এখন ফেসবুক আছে, ইউটিউব আছে, যেকোন একটা জিনিস স্ট্যাটাস দিয়ে দেয়। এটার জন্য যে চেয়ারম্যান-মেম্বারকে জবাবদিহিতা করতে হবে; তা নয়। উধ্বর্তন কর্মকর্তারা যদি জানতে চায় তখন আমি জবাবে বলব। পরিষদের জায়গায় দোকান বসে যদি উন্নয়ন হয়, চৌকিদার-তৌকিদার যদি একটু সম্বল হয়; তাতে সমস্যা কোথায়? এই টাকাতো আর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে ডুকবে না। আর এখন ইউনিয়ন পরিষদ কম বসে সমস্যা নাই।’

এসব অভিযোগ নিয়ে জানতে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা’র মুঠোফোনে একাধিকবার রিং করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *