বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

আজ সে ভয়াল ২৯শে এপ্রিল😥

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी ဗမာစာ ဗမာစာ

অসচ্ছ পূর্বাভাষের কারনেই গত ১৯৯১সালের ২৯শে এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ে কক্সবাজার উপকূলে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়।

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,মহেশখালী (কক্সবাজার)::১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল ঘুর্নিঝড়ে নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মহেশখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক, মহেশখালী পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া।

অরক্ষিত উপকূল,নেই বেড়িবাঁধ ও উপকূলীয় বেষ্টনী কিন্তু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মিলেনি গত ৩০ বছরে।

সেদিন ঘুর্নিঝড় সম্পর্কে অসচেতনতা ও অসতর্কতা এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকার কারনে, বাঁচার তাগিদে হাজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে অনন্যোপায় হয়ে।

গত ১৯৯১ সালে ঘুর্নিঝড়ের গতী প্রকৃতি ও জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলনা ঘুর্নিঝড় পূর্বাভাষ কেন্দ্রের।

ফলে ঘুর্নিঝড় কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ধারনা ছিল অসচ্ছ। তাছাড়া রাতে হঠাৎ মহা বিপদ সংকেত পাওয়ার পর ও সাধারণ মানুষ কুসংষ্কারের কারনে ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্তান নেয়নি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে।

তাছাড়া নিরাপদ আশ্রয় স্তল ছিল অপ্রতুল , দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের যথাযত প্রস্তুতি ছিলনা , অশিক্ষিত ও অসচেতন মানুষ অজ্ঞতার কারনে বেশি জীবন হারিয়েছে । তাই দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও জনসাধারন কে দ্বায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণীঝড়ের দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে আজো হাজারো মানুষ । ককসবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা সাগর তীরবর্তী ককসবাজার , কুতুবদিয়া , মহেশখালী ও বাঁশখালী, সন্ধীপের হাজার হাজার মানুষ তাদের স্বজনদের চিরতরে হারিয়েছে ।

এই উপকূলের এমন পরিবার খুজে পাওয়া মুশকিল যাদের পরিবারের কোন না কোন সদস্য ঘুর্ণীঝড়ে প্রান হারায়নি । তাই আজ আমাদের একটাই প্রত্যাশা আর যেন আমাদের জীবনে ২৯ শে এপ্রিলের মত দূযোর্গ নেমে না আসে তার জন্য এখনই প্রদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। ভয়াল ২৯ শে এপ্রিলের প্রলঙ্করী ঘূর্ণীঝড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুুুষ প্রান হারায় , গৃহহীন হয়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ , প্রায় ২০ লক্ষ গবাদীপশুর করুন মৃত্যু হয় । ঘরবাড়ী , শষ্য ক্ষেত্র , গবাদী পশু , লবন মাঠের লবন সহ পরিবারের স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে মানুষ।
প্রকৃতি কি পরিমান রূক্ষ ও প্রতিশোধ পরায়ন হতে পারে এটি এক অনন্য নজির । তাই আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে । তাছাড়া উপকূলীয় এলাকায় দূর্যোগ মোকাবেলায় আশ্রয়ান প্রকল্প সহ জন সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষন সহ , ঘূর্ণীঝড়ের পূর্বাভাষ জানানোর আধুনিক কৌশল গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া সর্বাগ্রে জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *